Welcome

না বলা কথা

না আমার কোন অপঘাতে মৃত্যু হয়নি। আমি একান্তই স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে নিয়েছি। বিশ্বাস করুন আমার বেচে থাকার কোন ইচ্ছাই ছিল না। তাই মৃত্যুকে খুব সহজভাবে আপন করে ধরা থেকে বিদায় নিয়েছি। আমার স্বামী আমাকে প্রচন্ড রকম ভালবাসতো এতে কোন দিন আমার কোন অবিশ্বাস ছিল না। আমি তার ভালবাসায় মুগ্ধ হয়ে শুধু মূখাবয়ব পানে চেয়ে দেখতাম। একটা পুরুষ তার সয্যাসঙ্গিনীকে এতটা ভাল বাসতে পারে, ভাল বাসাতে পারে? ও আমার চাহুনী দেখে আরো বেশী আদর করতো আর বলতো ‍‍আমার চোখ দুটি নাকি হরিনীর মত। আমার ওষ্ঠ, নাভীমূল, চিবুক ও যেন এক ক্ষুধার্থ ব্যাঘ্রের ন্যায় খেয়ে ফেলতে আপ্রান চেষ্টা করতো। আমি প্রথম প্রথম তাকে কিঞ্চিত বাধা দিলেও একসময় তাকে উদার হস্তে দান করি আমার তিল তিল করে আদরে গড়া দেহখানা।

    আমাকে তুমি মহল থেকে বের হতে দাওনি আমি মহিলা বলে। আজ তোমার ঘর থেকে আমাকে বের করে দিচ্ছো সাদা কাপড়ে মোড়া কফিনে করে কোন রকম আপত্তি না তুলে। তুমি ভাবছো আমি মরে গেছি। এটা তোমার ভুল ধারনা। আমিও এটা বিশ্বাস করতাম ধরার বুকে বেচে থাকতে। আমার ভুল ভেঙ্গেছে আজই, আমার মৃত্যুর পর। আমার দেহ খানি নিথর হয়েছে, তা এখন নিতান্তই বস্তু বটে। কিন্তু আমার আত্মা বেচে আছে, থাকবেও। তোমার বুক থেকে রক্তক্ষরন আমি ঠিকই দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু তুমি আমাকে দেখছো না। আমার নিথর দেহ খানা তুমি স্পর্শ করতে গেলে পাড়ার মোল্লারা তোমাকে স্পর্শ করতে দেয় নি। তারা বলছে তুমি আমাকে স্পর্শ করলে নাকি তোমার শরীরে কামভাব জাগতে পারে। হায়রে মূর্খ মোল্লারা, তুমি আমাকে স্পর্শ করতে চেয়েছিল কি জন্য তারা কি জানে বা জানার চেষ্টা করেছে। আর তুমি ভেবেছো আমার শরীর স্পর্শ করে আমার কাছে ক্ষমা চাইলেই আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব, ভুল তোমার ধারনা। তোমাকে ক্ষমা করার যোগ্যতাও আমি হারিয়ে ফেলেছি, তাই তোমাকে ক্ষমা করাও আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

    তোমার মনে অনেক দুঃখ তাই না? সারা জীবন যাকে বিশ্বাসের চাঁদর দিয়ে আকড়ে অন্ধ করে রেখেছো, শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসের চাদর ছিড়ে তার চোখ খুলে দিলে। আমাকে তোমার আসল রুপ রহস্য জানতে দিলে নিজের সামান্য অসাবধনতায়। তোমার মনে আছে যখন তুমি আমাকে কলেজের গেট দিয়ে বের হতে দেখে আমার পিছে পিছে আমাদের বাড়ীর সীমানা পর্যন্ত এসে ফিরে গেলে। তারপরের ঘটনা আরো অদ্ভুত। তুমি আমার পিতার এক বন্ধুর পরিচয়ে আমাদের বাড়ীতে এলে এক হাড়ী মিষ্টি নিয়ে। আমার মাকে আন্টি বলে তুমি পটিয়ে রাজী করলে কিন্তু আমাকে রাজী করার কোন প্রয়োজন মনে করলে না। তাতেও আমার কোন অভিযোগ ছিল না। কারন আমিতো তোমাকে পছন্দ করতাম। তোমার ঘরনী হয়ে আমিতো সুখীই ছিলাম। বাড়ীর সদর দরজা পার হওয়া যাবে না, প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে পায়ে হাত দিয়ে সালাম না করলে তোমার ঘুম ভাংবেনা, তুমি আমার কপোলে চুম্বন না করে ঘর থেকে বের হলে তোমার যাত্রা শুভ হবে না, তোমার ইচ্ছায় আমার দেহ দান না করলে তোমার মন খারাপ হবে, এরকম আরো কত শর্ত মেনেই আমাকে তোমার ঘর করতে হয়েছে। আজ তোমার এই সব শর্ত কে পালন করবে সেটাতো জানতে পারলাম না।

    আমার কিছু প্রশ্ন ছিল তোমার কাছে, যা কোন দিন তোমার কাছে তার উত্তর চাইতে পারিনি। আজও তোমাকে প্রশ্ন গুলো করতে পারবো না জানি। তারপরও জানতে চাই আমার কোন ইচ্ছাই কি তোমার পুরন করার দায়িত্ব ছিল না? আমার মনের ক্ষুদা মিটানোর দায়িত্ব কি তোমার ছিল না? তুমি বিছানায় না থাকলে আমার ঘুম পেত না, আবার তুমি যখন আমার দেহ নিয়ে তোমার তৃষ্ণা মিটাতে আমার তৃষ্ণা মিটলো কি না তা কি জানার চেষ্টা করেছে কখনো?  তোমার ইচ্ছা হলেই আমার দেহ ভোগ করতে আর আমার ইচ্ছা হলে তুমি কখনো নিজেকে দিয়েছো আমার তৃষ্ণা মিটাতে? এরকম হাজারো প্রশ্ন শুধু তোমার কাছে। আমার প্রশ্নের জবাব আমি নেব আবার কখনো দেখা হলে তোমার সাথে।   

    তুমি আজ প্রকাশ্যে আমার জন্য কাঁদতে পারছো না আমি দেখতে পাচ্ছি স্পষ্ট। কেন অগোচরে কাঁদছো তাও আমি দেখতে পাচ্ছি। বারবার আমার নিকট ক্ষমা চাচ্ছো, কিন্তু আমিতো তোমাকে ক্ষমা করবো না বলেই পালিয়ে এসেছি এটা তুমি বুঝছো কেন? তুমি আমার বিশ্বাসকে আমার দুর্বলতা ভেবেছো। আমি সৃষ্টিকর্তার পর তোমাকে স্থান দিয়েছি আমার হৃদয়ে। আর তুমি আমাকে চোখের আড়াল করে পরকীয়া প্রেমে নিজেকে বিলীন করেছো। হ্যাঁ আমি তোমার সকল সম্পদের ভাগ দিতে রাজী ছিলাম শুধু আমার প্রেমের ভাগ কাউকে দিতে পারিনি। তাইতো সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে চলে এলাম আমি বিহীন তোমার জীবনটা লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতে। বিশ্বাস করো আমি তোমাকে অভিশাপ দেব না। আর আমার অভিশাপে তোমার কিছু আসবে যাবে না। তুমি তোমার সুখ খুজে নাও আমার বিহনে।

আমার দেহটা কবরস্থ করতে যাচ্ছে, তুমি দুফোটা চোখের পানি ফেললে নিরবে। কেউ না দেখলেও আমি দেখলাম আর হাসলাম। তুমি বার বার আমাকে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছো। আমি আর কখনো তোমার কাছে ফিরে আসবো না যতই তুমি কেঁদে ফিরো। আমার দেহ মাটিতে ধ্বংশ হবে কেউ দেখবেনা এমনকি তুমিও। আমি শুধু দেখবো তোমার ধ্বংশ হওয়া না হয় আরেক নারীকে আলিঙ্গন করে তোমার বেচে থাকা। জানি আমার কোন অভিশাপ বা মঙ্গল কামনা তোমার জীবনে প্রভাব ফেলবে না। তবুও আমি তোমার বেচে থাকা দেখতে চাই আমাকে ছাড়া। দেখা হবে তোমার সাথে তোমার দেহের মৃত্যুর পর…..বিদায় হে বন্ধু।

Leave a Reply