Welcome

বীরাঙ্গনা

গোধুলী বেলা বসে একেলা, বাহির ঘরের বারান্দায়
এলো চুলে নারকেল তেলে, পরশ দিতে দিতে সন্ধ্যায়,
সামনে এসে ডাকাত বেশে, দাড়ালো পাষান শয়তান
মুখ চেপে বলে কেঁপে, “বস, পেয়েছি মাল একখান”
সাথে থাকা মুখ ঢাকা, আরো কয়েক চামচা
হাত মুখ বাধেঁ মোর, দিয়ে এক গামছা,
বাবা নেই বাড়ীতে, গিয়েছে পাড়াতে,
সুযোগ না ছাড়তে, বাবার চোখ এড়াতে
পাঁজা কোলে কাঁধে তুলে, হায়েনারা নিয়ে চলে
আধো আলো আধারে, দুর এক পাথারে।

চোখ মেলে দেখি একি? গোফওয়ালা মুর্তি
বলে কিনা আজ রাতি করবে সে ফুর্তি!
মুখ থেকে অবারিত বের হয় গন্ধ
মদ গিলে হয়েছে তার মানুষত্ব অন্ধ
হাত জোড় করি তারে চাহিলাম ভিক্ষা
সম্ভ্রম বাঁচাও মোর, করো মোরে রক্ষা
কে শোনে কথা কার, আরো দেখি দুই জন
কাঁদিতেছে, হারিয়েছে, তাহাদের সম্ভ্রম
হায়েনারা নিলো লুটে দেহখানা মোর
বাঁধা দিবো আছে কি, শরীরের জোর?
হায়েনারা একে একে করিতেছে ভোগ
চিৎকারে শ্রষ্টারে করি অভিযোগ।

জ্ঞান ফিরে দেখি একি! দেহ খানা নগ্ন
হায়েনারা তখনো উৎসবে মগ্ন
এভাবে চলে মোর বাকী দিনগুলি
জীবনকে দেখায় ওরা বৃদ্ধাঙ্গুলি
পরাধীনতার শৃঙ্খল কবে হব মুক্ত?
অপেক্ষার দিন কাটে, কাটে না রাত্র
সহেনা যাতনা কত দিবা নিশি
আমায় করে ক্ষত হায়েনার হাসি
আঘাতে আঘাতে সারা দিন ক্ষন
মৃত্যকে প্রতিক্ষন করি আলিঙ্গন।

এক দিন সন্ধায় মদ খেয়ে মাতাল হয়
হায়েনারা দল-বলে, এক সাথে নাচে গায়
বাঙ্গালী যোদ্ধারা চুপি চুপি ক্যাম্প ঘেরা
গ্লাসে মদ ভইরা, দেই খেতে বেশী কইরা।
খা খা আরো খা নেশা খেয়ে মরে যা
ধ্বংশের নেশাটা বাড়াতেই চেষ্টা!

রাত যখন হয় গভীর, নেশায় নিদ্রা অধর
ক্যাম্প ঘেরা যোদ্ধাদের চুপি চুপি দেই খবর
এক সাথে হাতে হাতে মেরে ফেলি সবটাকে
লাশ গুলো নদীতে দেই সব ভাসিয়ে
আমি পাই মুক্তি, পাই নাকো শক্তি
করিতে উক্তি, আমি যে নশ্যি!

এরপর স্বাধীন হলাম, বীরাঙ্গনা খেতাব পেলাম
ঘর বাড়ী পরিচয়, যা ছিল হারালাম
আমি যে কুল হারা, অজানা দিশেহারা
এখনো আছে তারা, সর্বনাশ করছে যারা
রাজাকার বলি তারে, এখনো ঘোরে ফেরে
মুখটাকে উচু করে, জাতিকে জুতা মেরে।

আমি চলি লুকিয়ে, চেনা মুখ এড়িয়ে
থাকি যে আড়ালে, কেউ হাত বাড়ালে
দেই তারে ফিরায়ে, নষ্টা আমি এ
কি করে বলি যে, বীরাঙ্গনা আমি হে
লজ্জা কি হয়না, শাস্তি কি পায় না?
রাজাকার মরে না, সম্মুখ ছাড়ে না!!

দেশটা হবে কবে রাজাকার শুন্য?
বীরাঙ্গনা আমি সেদিন হব যে ধন্য।

Leave a Reply