দিয়াশলাই এর ইতিকথা

post

বাংলাদেশে সবচেয়ে সস্তা দ্রব্য বা বস্তুর নাম কি? উত্তরে বলতে হবে দিয়াশলাই। কারন ২৫টি দিয়াশলাই এর একটি বক্স এখনও মাত্র এক টাকায় পাওয়া যায়। আবার এর উল্টোটিও বলা যায়। বাংলাদেশে সবচেয়ে দামি দ্রব্য বা বস্তু হচ্ছে দিয়াশলাই। মাত্র একটি দিয়াশলাই বাঁচাতে কোটি টাকার গ্যাস পুড়িয়ে ফেলছেন আমাদের গৃহিনীরা। শুধু চুলা নয় সিগারেট, মোমবাতি বা যে কোন কাজে আগুন জ্বালাতে দিয়াশলাইয়ের ব্যবহার এখনও অদ্বিতীয়। দামি হোক আর সস্তা হোক দিয়াশলাই আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অত্যান্ত প্রয়োজনীয় দ্রব্য এ নিয়ে কারো কোন দ্বিমত নেই। তবে সমসাময়িককালে অটো গ্যাসচুলা ও আধুনিক লাইটারের ব্যবহারের কারনে দিয়াশলাইয়ের ব্যবহার দিন দিন কমে আসছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দিয়াশলাইয়ের কারখানা, বেকার হচ্ছে লাখো শ্রমিক।

১৯৫২ সালে ব্যাংক ঋন নিয়ে সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয়ে জনাব জুবের আলী চট্টগ্রামের কালুরঘাটে সর্বপ্রথম একটি দিয়াশলাই কারখানা স্থাপন করেন এদেশে। এর ৪ বৎসর পরে খুলনা রুপসা নদীর তীরে ১৯৫৬ সালে ১৮ একর জমির উপর সুন্দরবনের গেওয়া কাঠ নির্ভর দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে। তবে এই কারখানাটি ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ২০১০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ইজারাদার প্রতিষ্ঠান ভাইয়া গ্রুপ সরকার বা শ্রমিকদের সাথে কোন প্রকার আলোচনা ছাড়াই দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। একই বৎসরের ১৮ আগষ্ট ফ্যাক্টরিটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

দিয়াশলাই এর ইংরেজী প্রতিশব্দ- Match(ম্যাচ) যা প্রাচীন ফরাসী শব্দ ‘‘মেসে” থেকে উদ্ভূত। দিয়াশলাই শব্দের উত্পত্তি সংস্কৃত দীপশলাকা > হিন্দি দিয়াশলাই থেকে। অভিধান মতে ঘষে আগুন জ্বালবার জন্য মাথায় বারুদ-দেওয়া সরু কাঠি ও তার বাক্স-কে বলে দিয়াশলাই। কখন থেকে আগুনের ব্যবহার শুরু হয়েছে তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এ নিয়ে অনেক গল্প-উপকথাও প্রচলিত আছে। যেমন—প্রাচীন গ্রিক পুরাণের গল্প কাহিনীতে পাওয়া যায় মানুষের ব্যবহারের জন্য প্রমিথিউস প্রথম স্বর্গ থেকে আগুন চুরি করে এনেছিলেন। দেবতাদের অগোচরে আগুন আনার অপরাধে স্বর্গের দেবতা জিউস অভিশাপ দেন প্রমিথিউসকে। সেই অভিশাপে ককেশাস পর্বতে বন্দি হয়েছিলেন প্রমিথিউস। আগুনকে দিয়াশলাইয়ের মাথায় বন্দি করে পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর ইতিহাস তেমন প্রাচীন নয়। সাধারণতঃ কাঠজাতীয় কাঠি দিয়ে দিয়াশলাই প্রস্তুত করা হয় ও দিয়াশলাই বাক্সে করে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বিপণন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা হয়। এর এক প্রান্তের সম্মুখাংশে রাসায়নিক দ্রব্য বা বারুদ থাকে যা ফসফরাস দিয়ে তৈরী। চুলা, ধুমপান, মোমবাতি, মশার কয়েলসহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে দিয়াশলাইয়ের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ডজন কিংবা গ্রোস আকারে দিয়াশলাই পাইকারীভাবে বিক্রয় করা হয়। যাহা পরবর্তীতে সাধারন গ্রাহকদের নিকট খুচরা পর্যায়ে বিক্রয় করা হয়।
৫৭৭ খ্রীষ্টাব্দে দিয়াশলাই হিসেবে পাইন গাছের কাঠ দিয়ে ছোট ছোট টুকরোয় সালফারের প্রয়োগ ঘটানো হয়েছিল। উত্তরাঞ্চলীয় ঝু এবং চেন, নর্দানকি এলাকায় মোতায়েনকৃত সামরিক বাহিনীর সদস্যদের আহারের জন্যে শুষ্ক, দাহ্য পদার্থ প্রজ্জ্বলন, রান্না ও উত্তাপের জন্যে আগুনের প্রয়োজনে এ পদ্বতি ব্যবহার হতো। ১৫৩০ সালের দিকে ইউরোপে বিভিন্ন ধরনের দিয়াশলাই প্রস্তুতের প্রচেষ্টা শুরু হয়। ১৬৬৯ সালে একজন অপরসায়নবিদ যে কিনা অন্যান্য অপরসায়নবিদদের মতই মনে করতেন যে তিনিও ধাতুকে স্বর্ণে পরিনত করতে পারেন, এমন কিছু আবিষ্কার করে ফেলেন যা নিশ্চিতভাবেই সোনা ছিলনা। অপরসায়নবিদ হামবুর্গের হেজিস ব্র্যান্ড সাদা ফসফরাস তৈরী করার পরবর্তীতে ১৬৮০ সালে ইংরেজ পদার্থবিজ্ঞানী রবার্ট বয়েল যার নাম অনুযায়ী বয়েলের সূত্র নামকরন হয়েছে, একটুকরা কাগজকে ফসফরাস দ্বারা আবৃত করেন এবং সালফার দ্বারা আবৃত একটা কাঠের টুকরা দ্বারা এটাকে আঘাত করেন। তিনি লক্ষ্য করেন যে এর ফলে বিস্ফোরনের মাধ্যমে আগুন উৎপন্ন হয়। তিনি অবশ্য বুঝেছিলেন যে ঘর্ষনের ফলে আগুন উৎপন্ন হয়নি বরং এটা হয়েছে ফসফরাস এবং সালফারের রাসায়নিক প্রকৃতির কারন। কিন্তু তাঁর অনুসৃত পরীক্ষাপদ্ধতিই (ঘর্ষন) আধুনিক ম্যাচ বা দিয়াশলাই আবিষ্কারের মূলনীতি।
এর অনেক পরে ১৮২৬ সালে ইংরেজ ফার্মাসিস্ট জন ওয়াকার দৈবক্রমে এমন একটি রাসায়নিক মিশ্রন আবিষ্কার করেন যা ছিল আগুন উৎপাদনে সক্ষম। একটি রাসায়নিক মিশ্রন (যাতে ফসফরাস ছিলনা) নাড়ার পরে নাড়ানি হিসেবে ব্যবহার করা কাঠিটিকে তিনি সরিয়ে ফেলেন এবং লক্ষ্য করেন যে কাঠিটির প্রান্তভাগে শুকনো কিছু লেগে আছে। যখন তিনি এই শুকনো অংশ দূর করার জন্য কাঠিটিকে মেঝের সাথে ঘষা দেন তখন কাঠিটি জ্বলে ওঠে। তার ঐ মিশ্রণ (যা আগুন জ্বালাতে সক্ষম ছিল) এর মধ্যে ছিল এন্টিমনি সালফাইড, পটাশিয়াম ক্লোরেট, গাম এবং স্টার্চ। তড়িঘড়ি করে তিনি তার এই আবিষ্কার জনসমক্ষে আনতে গিয়ে তিনি এটার পেটেন্ট নেননি। কয়েকদিনের মধ্যেই, জন ওয়াকার যাদের কাছে এই পদ্ধতিটি পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন তাদেরই একজন স্যামুয়েল জোনস এতবড় একটি সুযোগ পেয়ে হাতছাড়া করেননি। তিনি নিজের নামে এর পেটেন্ট নিয়ে নেন। তিনি অবশ্য এই মিশ্রন ব্যবহার করে লুসিফার নামক দিয়াশলাই তৈরি করেন। এই দিয়াশলাই এর বিক্রয় ছিল অবিশ্বাস্যরকমের বেশী। উল্লেখযোগ্য যে তখন দিয়াশলাই এর এই সহজপ্রাপ্যতা ধুমপানের হার বাড়িয়ে দিয়েছিলো। তবে লুসিফার এর খারাপ দিকও ছিল। লুসিফারের সবচেয়ে খারাপ দিক ছিল এর চরম দূর্গন্ধ এবং প্রজ্জ্বলনের সময়ে আতশবাজীর মত আগুনের ঝলকানি। লুসিফার প্রকৃতপক্ষে এমন এক সতর্ক সংকেত বহন করেছিল যে, শুধু এর দ্বারা জ্বালানো সিগারেটটাই ক্ষতিকর না বরঞ্চ এটি নিজেও স্বাস্থ্যের পক্ষে চরম হুমকি।

১৮২৮ সালে লন্ডনের স্যামুয়েল জোম্বা ক্লোরো পটাশ নামে গাঢ় সালফিউরিফ এসিডের বিক্রিয়া ঘটিয়ে দিয়াশলাই তৈরি করেন। প্রমিথিউসের স্মরণে নাম রাখেন প্রমিথিয়াল ম্যাচ। স্যামুয়েলের দিয়াশলাইতে ছোট কাচের বিডে আলাদা-আলাদা খোপে এসিড আর রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত কাগজ থাকত। আগুন জ্বালানোর প্রয়োজন হলে ওই বিডটি ভাঙতে হতো। এতে মিশ্রণটিতে রাসায়নিক বিক্রিয়া হতো। ফলে কাগজে আগুন ধরে যেত। একই সময়ে ইংল্যান্ডের জন ওয়াকার পটাশিয়াম ক্লোরেট এবং অ্যান্টিমনি সালফাইডের মিশ্রণে ঘষে ব্যবহারের উপযোগী প্রথম দিয়াশলাই লুসিফার তৈরি করেন। এরপর ১৮৩০ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী চার্লস সাওরিয়া নামক একজন ফরাসী রসায়নবিদ এই দূর্গন্ধ দূর করার জন্য লুসিফারের রেসিপি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি রেসিপিতে সাদা ফসফরাস যোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি করেন ঘর্ষণ দিয়াশলাই। এ দিয়াশলাইয়ের সুবিধা এবং অসুবিধা দুটিই ছিলো। স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়াতে এ দিয়াশলাই জ্বালানো গেলেও পকেটে রাখা যেত না। একটু বেশি তাপ মাত্রাতেই (৩৫ ডিগ্রি সে.) নিজে নিজে জ্বলে উঠত এ দিয়াশলাই। এর ধোঁয়া ছিলো বিষাক্ত। তিনি না জেনে হলেও সাদা ফসফরাস মিশ্রনের মাধ্যমে এক ভয়ংকর মহামারীর জন্ম দেন। এর প্রাদূর্ভাবে দিয়াশলাই কারখানার কর্মীরা দাঁতের ও চোয়ালের রোগে আক্রান্ত হতো। এই ফসফরাস ফোজি জাও নামক এক ভয়ংকর রোগের কারন ছিল। এই রোগে দিয়াশলাই কারখানায় কর্মরত কর্মচারীদের হাড় হয়ে পড়ত বিষাক্ত। ১ প্যাকেট দিয়াশলাইতে যে পরিমান সাদা ফসফরাস থাকত তা ছিল একজন মানুষের মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট। এরপর ১৮৪৫ সালে আন্তনভন স্ক্রুটারের ‘লাল’ ফসফরাস আবিষ্কার করেন। এটি ছিলো এক যুগান্তকারী ঘটনা। কারণ এটি দাহ্য হলেও বাতাসে জ্বলে উঠত না। আর এর বিষক্রিয়াও ছিলো কম। লাল ফসফরাস ব্যবহার করার পর থেকে বন্ধ হয়ে যায় সাদা ফসফরাসের দিয়াশলাই। ১৮৫৫ সালে নিরাপদ দিয়াশলাইয়ের প্রচলন করেন সুইডেনের জে.ই লুন্ডস্ট্রম।

“ম্যাচবুক” এর উল্লেখ ছাড়া দিয়াশলাই আবিষ্কারের কাহিনী অসম্পূর্ণ থেকে যায়। “ম্যাচবুক” হচ্ছে আমরা যে দিয়াশলাই ব্যবহার করি, অর্থাৎ কাগজের ফোল্ডারের মাধ্যমে যে দিয়াশলাই । জোসুয়া পুসি নামক Pennsylvania এর একজন আইনজীবি ১৮৮৯ সালে ম্যাচ বুক আবিষ্কার করেন। এই আবিষ্কারের পিছনে একটি গল্প আছে। একবার তিনি ফিলাডেলফিয়ার মেয়র কর্তৃক একটি ডিনারে আমন্ত্রিত হন। তিনি তার সর্বোৎকৃষ্ট পোশাক পরিধান করে গেলেন সে অনুষ্ঠানে। সবই ঠিক ছিল শুধু একটি জিনিস ছাড়া আর তা হল তিনি যে দিয়াশলাইটা সাথে নিয়ে গিয়েছিলেন। ধুমপান করার উদ্দেশ্যে তিনি কাঠের বাক্সের দিয়াশলাই(তখন তাই প্রচলিত ছিল) নিয়ে গিয়েছিলেন যা তাঁর ওয়েষ্টকোটকে এত ফুলিয়ে রেখেছিল যে তিনি বিব্রত হয়ে গিয়েছিলেন। তখনই তিনি চিন্তা করলেন যে দিয়াশলাই কাঠের বদলে যদি কাগজের তৈরি হত তাহলে আরো হালকা এবং ছোট হত। তিনি এই ধারনার উপর ভিত্তি করে কাজ শুরু করেন। তাঁর ধারনা ঠিক ছিল। কিন্তু তিনি একটু গলদ করে ফেলেছিলেন। তাঁর তৈরি দিয়াশলাই এর স্ট্রাইকিং সারফেসটা ছিল ৫০ টা কাঠিযুক্ত দিয়াশলাই-এর ভিতরের দিকে। এর ফলে একটি কাঠি জ্বালালে বাকী ৪৯টিও জ্বলে উঠত।
প্রথম দিকে “ডায়মন্ড ম্যাচ কোম্পানি”র সাথে তাঁর এই “ম্যাচবুক” এর আবিষ্কার নিয়ে মামলা লড়তে হয়েছিল, কারন “ডায়মন্ড ম্যাচ কোম্পানি” প্রায় একই সময়েই “ম্যাচবুক” আবিষ্কার করেছিল।কিন্তু মামলায় মিস্টার পুসিই জয়লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি অবশ্য “ডায়মন্ড ম্যাচ কোম্পানি”র কাছে তাঁর “ম্যাচবুক” এর সর্বসত্ত্ব ৪০০০ ডলারের বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। “ডায়মন্ড ম্যাচ কোম্পানি” এরপর মিস্টার পুসির “ম্যাচবুক” এর স্ট্রাইকিং সারফেস বাইরে নিয়ে আসেন এবং “সেফটি ম্যাচ” নামে বাজারজাত করে।

অবশেষে ১৯১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে “ডায়মন্ড ম্যাচ কোম্পানি” নামক একটি কোম্পানি সর্বপ্রথম অবিষাক্ত দিয়াশলাই এর পেটেন্ট করায়। তারা যে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে অবিষাক্ত দিয়াশলাই উদ্ভাবন করেছিল তা হল সেসকুইসালফাইড অফ ফসফরাস। এই আবিষ্কারটি এতই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি উইলিয়াম এইচ. টাফট “ডায়মন্ড ম্যাচ কোম্পানি” কে অনুরোধ করেন তাদের পেটেন্ট তুলে নিতে, এবং বিশ্বমানবতার জন্য সবার কাছে তাদের এই অবিষাক্ত দিয়াশলাই এর রেসিপি উন্মুক্ত করে দিতে, যাতে সব কোম্পানিই তা অনুসরন করতে পারে। যদিও ব্যাপক মুনাফাগত সম্ভাবনা ছিল কিন্তু তারপরেও “ডায়মন্ড ম্যাচ কোম্পানি” এই মানবিক আহবানে সাড়া দিয়ে ১৯১১ সালের ২৮শে জানুয়ারি তাদের পেটেন্ট তুলে নেয়। এর পরপরই আমেরিকা কংগ্রেস একটি বিল পাস করে যাতে সাদা ফসফরাস যুক্ত দিয়াশলাই এর উপর অকল্পনীয় হারে ট্যাক্স ধার্য্য করা হয় যাতে আর কেউ এই ধরনের দিয়াশলাই তৈরিতে উৎসাহী না হয়।

মানুষের হরেকরকম শখের মধ্য দিয়াশলাইয়ের বাক্স ও মার্কা জমানো অন্যতম একটি শখ। ১৯৯২ সালে জাপানের তেইচি ইয়েসি জাওয়া ৭৫ বছর ধরে ১৫০টি দেশের ৭ লাখ দিয়াশলাই মার্কা জমিয়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে নাম লিখিয়েছেন। দিয়াশলাইয়ের বক্স ও মার্কা জমানোর শখকে বলা হয় ‘ফিলুমেরি’। যারা এগুলো সংগ্রহ করেন তাদের বলা হয় ফিলুমেনিস্ট।
আমরাও পিছিয়ে নেই। ঢাকার অদূরে শিল্পাঞ্চল সাভার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মরহুম হাজ্বী মোঃ ইউসুফ মিয়ার পুত্র সংবাদকর্মী আজিম উদ্দিনের সংগ্রহে রয়েছে বিভিন্ন মডেলের দেশি বিদেশি প্রায় ২ হাজারের বেশি ম্যাচবক্স ও লাইটার। এসব ম্যাচ ও লাইটার দিয়েই তিনি গড়ে তুলেছেন এক ব্যতিক্রমী সংগ্রহশালা বা যাদুঘর। বাংলাদেশ সহ সংগৃহিত সর্বমোট ৫০টি দেশের তৈরী ম্যাচ ও লাইটার রয়েছে তাঁর সংগ্রহ শালায়।

বাংলাদেশের ম্যাচ সমুহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মোরগ, ক্যামেল, পান্ডা, রুপ চাঁদা, মৃগেল, রেডফিস, হাঙর, পেংগুইন, পিকক, কাঠবিড়ালি, খরগোশ, রোবট, রকেট, স্কাট, ফুটবল, সুপার সনিক, সুপার পাওয়ার, সুপার ফায়ার, চিতল, ডলফিন, পাঙাস, ঈগল, ময়না, কবুতর, কিংফিসার, গোল্ডলিফ, উইলসন কোং, মেরিন, রোথম্যান, সানমুন, বনানী গোল্ড, রাজধানী, সুপার স্টার, সুপার গোল্ড, সুপার প্লে, সুপার গেম, সুপার গ্লোব, গোল্ড স্টার, ইউরো ২০০০, ফায়ার বক্স, ভরসা, ভরসা গোল্ড, করিম ভরসা, কেভি গোল্ড, মৌরানী, মৌবন, প্রজাপতি, মালবুরো, ওমেকা, বেলুন, হিমালয়, বিশ্বাস, ট্যাক্সি, চ্যাম্পিয়ন, ফিলিপস, আলিফ, গ্রামীন, দেশ, বর্ষা, টু স্টার, টুয়েলব স্টার সহ আরো রয়েছে অনেক ব্রান্ডের ম্যাচ।

Leave a reply